Saturday, October 9, 2010

article logoল্যাপটপ কেনার পূর্বে কিছু টিপস-২

আগের পর্ব

আনুষাঙ্গিক বিষয়াবলী :
কেমন ধরণের নোটবুক বা ল্যাপটপ আপনার দরকার সে বিষয়ে নিশ্চয়ই একটা ধারণা করে ফেলেছেন আশা করি। এবার স্পেসিফিকেশনের দিকে যান। কোন কোন জিনিসগুলো আপনার দরকার, আর কোন কোনগুলো আপনার দরকার নেই সেগুলো একটু ক্লাসিফাই করে নেন। তাহলে আশা করি আপনার প্রয়োজন অনুয়াযী একটা ভালমানের ল্যাপটপ বা নোটবুক নিতে বেগ পেতে হবে না। আর সেসব আনুষাঙ্গিক বিষয়াদির মধ্যে রয়েছে- ডিসপ্লে, গ্রাফিক্স কন্ট্রোলার, মেমোরী (র‌্যাম), হার্ড ডিস্ক, পোর্টেবল স্টোরেজ, নেটওয়ার্কিং অপশন, অন্যান্য সকল কানেকটিভিটি, সাউন্ড ও ব্যাটারী।

ডিসপ্লে এবং গ্রাফিক্স :
চোখের ক্ষতি আর টেক্সটকে স্বচ্চ করে দেখানোর জন্য এখন প্রায় সকল নোটবুকেই এলসিডি (Liquid Cristal Display) স্ক্রীন। এই স্ক্রীণ CTR মনিটর থেকে টেক্সটকে অধিক সুন্দর দেখালেও উন্নত কালার কম্বিনেশনের গ্রাফিক্সকে CTR এর মতো দেখাতে পারে না। তাই নোটবুককে যদি গ্রাফিক্স-এর কাজে ব্যবহার করতে চান তাহলে এর সাথে CTR মনিটার অবশ্যই যুক্ত করতে হবে উন্নত গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস পাবার জন্য। নোটবুকের স্ক্রীন সাধারণত ১২.১ থেকে ১৭ ইঞ্চি (চওড়া স্ক্রীণ) হয়ে থাকে। ১৫ থেকে ১৫.৪ এর ওয়াইড স্ক্রীনগুলো এখন কমন। আর এটি জনপ্রিয় হয়েছে কেবল আধুনিক ওয়াইস্ক্রীনের ডিভিডি প্লেব্যাক ও গেম এর জন্য।
স্ক্রীণ রেজুলেশন স্ক্রীণের সাইজ ও গ্রাফিক্স কার্ডের উপর নির্ভর করে। বড় স্ক্রীন নিলেন কিন্তু গ্রাফিক্স কার্ড ভাল না তাহলে আপনি আপনার কাঙ্কিত আউটপুট পাবেন না। স্ক্রীণের আলোকোজ্জ্বলতার মাপটাও আরেকটা লক্ষণীয় বিষয়। বিভিন্ন মডেল ও ব্রান্ডের মধ্যে এর তারতম্য হয়ে থাকে। আলোকোজ্জল স্ক্রীণে চোখের ক্ষতি কম করে আবার অনেক ডকুমেন্ট সহজে পাঠ্যও হয়। তাই কিছু কিছু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এই এলসিডি স্ক্রীণের উপর উজ্জ্বলতা বর্ধক ও প্রতিচ্ছবি সৃষ্টিকারী এক ধরণের লেমিনেটেড বস্তু ব্যবহার করে থাকে। এটি ডিসপ্লে কনট্রাস্ট এবং কালারকে উজ্জ্বল করলেও চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে। এমনকি সময় সময় এই কোটেড এর কারণে অনেক সাধারণ লেখাও ভালভাবে পড়া যায় না এবং স্ক্রীণের উপর কোন আচর লাগলে তা স্পস্ট চোখে পড়ে। কিছু কিছু এলসিডি স্ক্রীণ পাশ থেকে সহজে স্ক্রীণের বিষয়বস্তু দেখা যায় না।
ল্যাপটপের গ্রাফিক্যাল টেকনোলজি ডেক্সটপের থেকে এখনো নিম্নমানের। কিন্তু সকল গ্রাফিক্স কন্ট্রোলারই দ্বিমাত্রিক ছবিকে প্রদর্শন করতে পারে। আপনি যদি লেটেস্ট ত্রিমাত্রিক গেম বা আপনি যদি ক্যাড ডিজাইনার হন তাহলে অবশ্যই উচ্চ মান সম্পন্ন ভিডিও ম্যামোরী চীপ যুক্ত গ্রাফিক্স কন্ট্রোলার সম্পন্ন ল্যাপটপ কেনাই যুক্তিযুক্ত।
মেমোরী এবং স্টোরেজ স্পেস :
সব কম্পিউটারেই র‌্যাম সিপিইউ'র সাথে হার্ডড্রাইভ এবং প্রোগ্রাম কমান্ডের সংযোগ ঘটানোর কাজটা দ্রুততর করে থাকে। তাই র‌্যামের মানটা অবশ্যই ভাল নেয়া চাই। এক্ষেত্রে DDR SDRAM এর চাইতে অবশ্যই নেক্সট জেনারেশন মেমোরী DDR2 SDRAM নেয়াটাই ভাল। এটি ল্যাপটপ বা পিসির গতিকে দ্বিগুণ পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। র‌্যামের প্রশ্নটা যখনই আসবে তখন অবশ্যই ২৫৬ এর নিচে নেয়াটাকে সাপোর্ট করবেন না। আপগ্রেডেট মেমোরী যুক্ত পিসি দেবে আপনার মনের মতো পারফরমেন্স। কিছু কিছু ব্র্যান্ড মেমোরীটাকে প্রাধান্য দিয়েই বাজারে আসে। সেগুলো খুজে বের করতে হবে।
এপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ মেয়াদী বিষয় হচ্ছে হার্ডড্রাইভ। তাই হার্ডড্রাইভের স্পেসিফিকেশন যখন দেখবেন তখন দুটো জিনিস খেয়াল রাখবেন খুব মনযোগ সহকারে। একটি হচ্ছে হার্ডড্রাইভের সাইজ। আর অপরটি হচ্ছে প্রতি মিনিটে এর ডাটা রিপিটেশন ক্ষমতা (Revolution Per Minute-rpm). দ্রুত গতি সম্পন্ন হার্ডড্রাইভ দ্রুত ডাটা একসেস, লোডিং ও সেভিং এর সুবিধা বেশী দেয়। বর্তমানে নোটবুক বা ল্যাপটপের জন্য ১২০ গিগা পর্যন্ত হার্ডড্রাইভ পাওয়া যায়। আপনার যদি বড় বড় ফাইল নিয়ে কাজ হয় তাহলে অবশ্যই ৪০ গিগার নিচে কোন হার্ডড্রাইভ পছন্দ করতে যাবেন না। আবশ্য সেটা কনসিডার করতে পারেন যদি আপনি পোর্টেবল স্টোরেজ ব্যবহার করেন। যেমন-ডিভিডি রাইটার, এক্সটার্নাল হার্ডড্রাইভ, ফ্লাশ ড্রাইভ।

নেটওয়াকিং এবং কানেকটিভিটি:
প্রায় সকল ব্রান্ডের ল্যাপটপেই এখন ২৫৬কেবিপিএস মডেম (RJ-11কানেক্টর), ইথারনেট (RJ-45) বিল্ডইন দেয়া থাকে। আরো কিছু এক্সট্রা ফিচারও থাকে। যেমন ইনফ্রারেড- যা দিয়ে আপনি আপনার মোবাইলকে ল্যাপটপ বা নোটবুক এর সাথে কানেক্ট করতে পারবেন। ব্লু-টুথ, ওয়াই-ফাই, ওয়্যারল্যাস কানেক্টর, প্রিন্টার কানেক্টর, এক্সটার্নাল ভিজিএ কানেক্টর, ইউএসবি ইত্যাদি। বর্তমানে সকল ল্যাপটপেই ইউএসবি ২.০ সাপোর্ট থাকে।
আধুনিক নোটবুক বা ল্যাপটপ কম্পিউটারগুলোতে সাধারণত যে কোন পিসি কার্ডকে প্লাগ এন্ড প্লে সাপোর্ট নেয়। ইদানিংকালের সেরা গ্রাফিক্স কার্ড যাকে এক্সপ্রেস কার্ড হিসেবে আমরা জানি, খুব ছোট কিন্তু দ্রুত। এটিও এখন ল্যাপটপে পাওয়া যায়। যা কিনা ভিডিও আর শব্দের মানকে করে অতি উন্নত।

তাই ল্যাপটপ কেনার আগে এ বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। এছাড়াও নেট সার্চ করে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পারেন। অবশ্যই ল্যাপটপ বা নোটবুক কেনার আগে সেগুলোও একবার দেখে নিবেন। উৎপাদনকরী প্রতিষ্ঠান, মডেল এবং মূল্য যাচাই-বাচাই করেই কিনুন একটি ভালমানের ল্যাপটপ যা কিনা আপনাকে এবং আপনার প্রয়োজনকে বুঝবে।

0 comments:

Post a Comment